19.5 C
Kolkata
Tuesday, January 19, 2021
Home খবর ট্যাক্সির ডিকিতে সবজির বস্তায় মানুষের রক্তাক্ত দেহ!

ট্যাক্সির ডিকিতে সবজির বস্তায় মানুষের রক্তাক্ত দেহ!

নাকা চেকিং এর সময়  ট্যাক্সির ডিকি খুলতেই দেখা গেল শাক-সব্জি বোঝাই একটা সাদা রঙের বস্তা।সন্দেহ করার কোন কারণ নেই। বস্তার পিছন থেকে কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল।তাই এক পুলিশকর্মি কৌতূহলী হয়ে বস্তাটা একটু বাঁ দিকে সরাতেই বস্তার পিছনে দেখা গেল মানুষের রক্তাক্ত দেহ। ঘণ্টা চারেকের মধ্যে হত্যা রহস্যের সমাধান করল কলকাতা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম চৌবাগার কাছে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ের উপর নাকা চেকিং সময়। শুক্রবার ভোর সওয়া চারটে নাগাদ। পুলিশকর্মীরা একটি হলুদ রঙের ট্যাক্সি দাঁড় করান। তাঁরা ট্যাক্সির ডিকি খুলতে বলেন চালককে। এই সময় পুলিশকর্মীরা লক্ষ্য করেন, চালক ডিকি খুলতেই ট্যাক্সিতে বসা এক ব্যক্তি নেমে পালানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ কর্মীরা তাঁকে পাকড়াও করে । এদিকে সবজির বস্তার আড়াল থেকে বেরিয়ে পড়েছে বছর ষাটের এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ। ট্যাক্সিতে চালক ছাড়া আরও ছিলেন এক মহিলা এবং এক পুরুষ যাত্রী।

প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ ট্যাক্সিচালক-সহ তিন জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। জেরায় জানা যায়, ট্যাক্সির যাত্রি মহিলার নাম মলিনা মণ্ডল এবং তাঁর সঙ্গী পুরুষ যাত্রীর নাম অজয় রং।প্রথমে অস্বীকার করলেও, পরে মলিনা এবং অজয় স্বীকার করেন, দেহটি কবরডাঙার বাসিন্দা সুজাতা গায়েনের। মৃত সুজাতা গায়েন হচ্ছে মলিনার বড় মেয়ের শাশুড়ি। মেয়ের সঙ্গে তার শাশুড়ির পারিবারিক বিবাদ লেগেই থাকে সেই কারনে মলিনা, অজয় এবং মলিনার স্বামী— তিন জন মিলে সুজাতাকে রাতে লাঠি দিয়ে মেরে, গলা টিপে খুন করেছে। তার পর ট্যাক্সিতে দেহ তুলে সব্জির বস্তার আড়ালে নিয়ে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে কোথাও দেহটি ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তায় এর আগেও কয়েকটি নাকাতে আটকেছিল ওই ট্যাক্সিকে। কিন্তু কোনও জায়গাতেই গাড়ির ডিকি খোলা হয়নি বা খুললেও দেহটি চোখে পড়েনি পুলিশের। এমনকি পরমা আইল্যান্ডের নাকাতেও চালক বা যাত্রীদের আচরণে সন্দেহজনক কিছু না দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নাকা পেরিয়ে গেলে সহজেই দেহটি লোপাট করতে পারত ওই তিন জন। কয়েক দিন আগেই কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার মুখে শহরের রাস্তায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানর কথা বলেছিলেন। সেই নজরদারি বাড়াতেই সুফল মিলল হাতেনাতে। লালবাজারের এক শীর্ষ পুলিশকর্তা স্বীকার করেন, ‘‘এ দিনের ঘটনা প্রমাণ করে দিল, নাকাতে তল্লাশি আরও সতর্ক ভাবে করতে হবে।

Most Popular

TODAY'S TOP NEWS